নারায়ণগঞ্জের কাশীপুরের গোয়ালবন্দ এলাকায় ‘আশ্রয় বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর ভবন গোপনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে সমিতির অর্থ আত্মসাৎ, আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা এবং দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রম বন্ধ থাকার অভিযোগও তুলেছেন সাধারণ সদস্যরা। সমিতির সম্পদ রক্ষা, আর্থিক অনিয়মের তদন্ত ও কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।
গত ১৫ অক্টোবর এ বিষয়ে হাটখোলা সমাজ উন্নয়ন সংসদের সভাপতির কাছে লিখিত আবেদন করেন সদস্যরা। আবেদনের অনুলিপি জেলা ও সদর উপজেলা সমবায় কার্যালয়, কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদ এবং ফতুল্লা মডেল থানায় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আবেদনকারীদের দাবি, ‘ওয়ার্ল্ড ভিশন’ নারায়ণগঞ্জ এডিপির উদ্যোগে ২০১০ সালে কাশীপুর দক্ষিণ গোয়ালবন্দ এলাকায় সমিতিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় সমবায় কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এর কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ২০১৩ সালে ওয়ার্ল্ড ভিশন নারায়ণগঞ্জ থেকে চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে সমিতি পরিচালিত হতে থাকে।
সদস্যদের অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে সমিতির ব্যবস্থাপনায় রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্কের প্রভাব তৈরি হয়। এর ফলে সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়।
অভিযোগে সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আক্তারের নাম উঠে এসেছে। তিনি কাশীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সমিতির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
সমিতির কর্মচারী ফরিদা বেগমের বিরুদ্ধে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছেন সদস্যরা। তাঁদের ভাষ্য, এ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি আগে সাধারণ সদস্যদের জানানো হলেও টাকা উদ্ধারের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে তাঁদের কাছে স্পষ্ট কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সদস্যদের আরও অভিযোগ, সমিতির ভবন বিক্রির চেষ্টা চলছে। ভবনটি কেনার আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে সেটি পরিদর্শন করছেন বলেও তাঁরা দাবি করেছেন।
এ নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গেলে সাধারণ সদস্যদের মামলা ও হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তির সহযোগিতায় সমিতির সম্পদ বিক্রি করে আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি।
এদিকে আর্থিক ও ব্যবস্থাপনাগত জটিলতার কারণে প্রায় আট বছর ধরে সমিতির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, সমিতির কার্যালয় অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। ফলে সাধারণ সদস্যরা তাঁদের প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং সমিতির মূলধন, সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের হিসাব সম্পর্কে জানতে পারছেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা মোল্লা বাপ্পি বলেন, এলাকার সমিতির অনেক সদস্য তাঁদের টাকা বুঝে না পাওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে ভবন বিক্রির চেষ্টা কিংবা স্থানীয় বিএনপির কোনো নেতা-কর্মীর সহযোগিতার বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
তিনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় পাশে থাকবেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী সদস্যরা সমিতির আর্থিক লেনদেন, সম্পদের মালিকানা, ভবন বিক্রির উদ্যোগ এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সমিতির সম্পদ সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ এবং সমবায় আইন ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণ করে কার্যক্রম পুনরায় চালুর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
সদস্যদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে, যাতে সমিতির সম্পদ সুরক্ষিত থাকে এবং সাধারণ সদস্যদের অধিকার নিশ্চিত হয়।