প্রয়াত কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক এনামুল হক প্রিন্সের স্মৃতিকে ধরে রাখতে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়েছে স্মরণসভা, কবিতা আবৃত্তি ও দোয়া মাহফিল। অনুষ্ঠানে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তাঁর অর্জিত সম্মাননা ও স্মারক সংরক্ষণে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কক্ষ দেওয়ার সম্মতি জানানো হয়েছে। সেখানে গড়ে তোলা হবে ‘প্রিন্স কর্নার’, যেখানে সংরক্ষিত থাকবে তাঁর জীবনের নানা অর্জন ও স্মৃতিচিহ্ন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে কাব্যছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগার এবং নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির যৌথ উদ্যোগে এ স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
কাব্যছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগার, নারায়ণগঞ্জের সভাপতি এবং নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কাব্যছন্দ পাঠাগারের সহসভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে প্রয়াত এনামুল হক প্রিন্সের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর তাঁর স্মরণে কবিতা আবৃত্তি, স্মৃতিচারণ, আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
নারায়ণগঞ্জ জার্নালিস্ট ইউনিটির সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আনিসুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন কাব্যছন্দ পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম। স্মৃতিচারণ করেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ আহমেদ খোকন। কবি ও সাংবাদিক সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি প্রয়াত প্রিন্সকে নিবেদিত মানপত্র ও শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দৈনিক খবরের পাতার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম। প্রধান আলোচক ছিলেন নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফজলুল হক রুমন রেজা।
আলোচনায় আরও অংশ নেন কবি ও সাংবাদিক রণজিৎ মোদক, সাংবাদিক আবুল হোসেন, নাট্যব্যক্তিত্ব মাসুমুল হক সোহেল, আল আশরাফ বিন্দু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার যুগ্ম মহাসচিব সাব্বির আহমেদ সেন্টু, ফতুল্লা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রহীম, আনন্দধামের নির্বাহী চেয়ারম্যান হাসিনা রহমান সিমু এবং প্রয়াতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বড় ভাই মো. মোজাম্মেল হক।
এ ছাড়া কবি ও চিকিৎসক ডা. গাজী খায়রুজ্জামান, কবি ও শিক্ষক কামাল সিদ্দিক, জাদুশিল্পী কবির প্রধান, কবি শাহানা মান্নান বুলবুল, কবি শাহ আলম, কবি জাহাঙ্গীর ডালিম, কবি রাজলক্ষ্মী, শুক্কুর মাহমুদ জুয়েল, রুদ্র, তাজুল ইসলাম, পারভীন আক্তার ও রওশন আরাসহ অনেকে কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণে অংশ নেন।
প্রিন্সের স্মৃতি সংরক্ষণে ‘প্রিন্স কর্নার’ গড়ে তোলার দাবি
স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, এনামুল হক প্রিন্স স্বল্প জীবনে কবিতা, সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজস্ব পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। জীবদ্দশায় তিনি অসংখ্য সম্মাননা স্মারক, ক্রেস্ট ও সনদ অর্জন করেন। কিন্তু যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে তাঁর এসব অর্জন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তাঁর স্মৃতি ও কর্ম ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পরিবারের কাছে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে এসব সম্মাননা সংরক্ষণের দাবি জানান বক্তারা। তাঁদের এ প্রস্তাবে পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মতি জানানো হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি কক্ষ দেওয়ার আশ্বাস পাওয়ায় ‘প্রিন্স কর্নার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, এনামুল হক প্রিন্স একাধারে কবি, সাংবাদিক ও সংগঠক ছিলেন। তাঁর অকালপ্রয়াণে নারায়ণগঞ্জের সাহিত্য ও সাংবাদিকতা অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
প্রধান আলোচক ড. ফজলুল হক রুমন রেজা বলেন, এনামুল হক প্রিন্স ছিলেন তারুণ্যের প্রতীক। একজন প্রিন্স চলে গেছেন, কিন্তু তাঁর রেখে যাওয়া কর্ম ভবিষ্যতেও মানুষকে পথ দেখাবে।
কাব্যছন্দ সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা পাঠাগারের সভাপতি শফিকুল ইসলাম আরজু বলেন, প্রয়াত এনামুল হক প্রিন্সের স্মৃতি অম্লান রাখতে পাঠাগারের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রতিবছর সাহিত্য প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের তাঁর নামে স্মৃতিপদক দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাঁকে নিবেদিত লেখা নিয়ে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে।
কবিতা পাঠ ও আলোচনা শেষে প্রয়াত এনামুল হক প্রিন্সসহ সকল প্রয়াত কবি ও সাংবাদিকের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন কবি নাজমুল হোসাইন।
স্মৃতিচারণ, কবিতা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি প্রয়াত এনামুল হক প্রিন্সের কর্মময় জীবনকে নতুন করে স্মরণ করার পাশাপাশি তাঁর সাহিত্যিক ও সাংবাদিকতাসংক্রান্ত অবদান সংরক্ষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।