বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

দিনাজপুরে OMS চাল-আটা বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ, ডিলারদের খেয়ালখুশিতে ভোগান্তিতে নিম্নআয়ের মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • সর্বশেষ সময়: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

দিনাজপুর জেলায় সরকারি ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কর্মসূচির আওতায় চাল ও আটা বিক্রিতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে কিছু ডিলার নিজেদের মতো করে নিয়ম চালু করায় নিম্নআয়ের সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব অনিয়মের বিষয়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।

সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, ওএমএস ডিলারশিপ পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত দোকান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা থাকার কথা। তবে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছু ডিলার স্থায়ী মুদি দোকানের পরিবর্তে গলির ভেতর ছোট ঘর কিংবা অস্থায়ী স্থানে চাল-আটা বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ভুক্তভোগী ক্রেতাদের অভিযোগ, পণ্য নিতে গিয়ে তাদের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ড জমা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি সপ্তাহে মাত্র একদিন পণ্য দেওয়া হবে—এমন নির্দিষ্ট দিনও ঠিক করে দিয়েছেন কোনো কোনো ডিলার। তবে এসব নিয়ম সরকারি নির্দেশনার অংশ কি না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।

ক্রেতাদের দাবি, ডিলারদের এমন নিজস্ব নিয়মের কারণে অনেকেই নির্ধারিত দিনে পণ্য না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে, ওএমএস কার্যক্রমে নিয়োজিত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময় নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরার নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন বিক্রয়কেন্দ্রে তা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও বহিরাগত ব্যক্তিদের আলাদা করে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয় নিয়মিত তদারক করার কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যকর নজরদারি নেই। ফলে অনিয়মের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ নিজেদের মতো করে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

বিষয়টি নিয়ে দিনাজপুর জেলা ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে জানা গেছে। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বরাদ্দ না থাকার কথা জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের এমন অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিভিন্ন ডিলার পয়েন্টে ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) পাওয়া যায়নি। তবে খাদ্য অফিসের কাছে একটি ডিও চালানের বিপরীতে চারজনের ডুপ্লিকেট কপির ছবি পাওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্তের দাবি উঠেছে।

সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকারি ভর্তুকি মূল্যের চাল ও আটা প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে হলে ওএমএস কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

এ অবস্থায় ওএমএসের সব বিক্রয়কেন্দ্রে সরকারি নিয়ম কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, ডিলারদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং এবং অভিযোগগুলো তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

বিস্তারিত